
নওগাঁ মান্দায় সার ডিলারের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া।
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাকিবুল ইসলাম মিঠু।
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিনের নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক এবং অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী কৃষকদের বক্তব্য রয়েছে।
অথচ কৃষি কর্মকর্তার নানা অনিয়মের চিত্র আড়াল এবং ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে
প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের (ইউপি) বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী যুগল চন্দ্র মণ্ডল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,আমি বিসিআইসির লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন ডিলার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণ করে আসছি। কোনো অবস্থাতেই বেশি দামে সার বিক্রি করা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “এক সময় আমার ভাই সুবল চন্দ্র মণ্ডল ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। পারিবারিক কারণে তাকে সরিয়ে দিলে তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছেন, যা আমার ব্যবসার সুনাম ক্ষুন্ন করছে।”অথচ একজনের নামে ডিলার নিয়ে অন্যজনের ব্যবসা করা অবৈধ সেটা তিনি গোপণ করেছেন।এছাড়াও কৃষি কর্মকর্তা সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে একই কর্মস্থলে বছরের পর পর চাকরি করছেন এটাও গোপণ করেছেন। এমনকি সার বিপণন নীতিমালা লঙ্ঘন করে সাবাইহাটে একাধিক ডিলার সিন্ডিকেট করে সার ব্যবসা করছে এবিষয়েও কোনো কথা বলেননি।এছাড়াও জনপ্রতিনিধি, সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী কৃষকেরা যে বক্তব্য দিয়েছেন সেই বক্তব্যর বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য না করে কৃষি কর্মকর্তার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন,
“শায়লা শারমিন একজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা। তিনি কঠোরভাবে মনিটরিং করেন, তাই নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে এই সংবাদ সম্মেলনের খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে,উঠেছে সমালোচনার ঝড়,বইছে মুখরুচোখ নানা গুঞ্জন,জনমনে দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া।
এদিকে ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি
কৃষি কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতি আড়াল করতে এমন লোক দেখানো সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছে,কৃষি কর্মকর্তা ও কয়েকজন সার ডিলারের বিরুদ্ধে সার সিন্ডিকেট দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর প্রকাশের পর উপজেলা জুড়ে
যখন আলোচনা সমালোচনার ঝড় তুঙ্গে, ঠিক তখনই নিজের দুর্নীতি আড়াল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কৃষি কর্মকর্তা। তারা বলেন, এজন্য অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করে অভিযুক্ত ডিলারকে দিয়ে সম্মেলন করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন (ইউপি) কৃষক দলের সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, তিনি অবস্থা সম্পন্ন একজন কৃষক, তিনি প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে আবাদ করেন, কিন্তু আজ অবধি ডিলার যুগলের কাছে সরকারি রেটে সার পাই নাই, কিন্তু প্রতি বস্তায় দুই থেকে তিনশ টাকা অতিরিক্ত দিলে ইচ্ছেমতো সার পাওয়া যায়। এছাড়াও কৃষক আব্দুল লতিফ, এবাদ, শামসুল ইসলামসহ একাধিক কৃষকের একই অভিযোগ।কৃষকেরা বলেন, যুগল চন্দ্রের ডিলার দিয়ে ভাই সুবল চন্দ্র ব্যবসা করেন। প্রান্তিক কৃষকদের অভিযোগ বছরের পথ বছর ধরে একই উপজেলায় থাকায় এই কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিনের কাছে অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। কৃষি কর্মকর্তা ডিলারদের পক্ষে কথা বলেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, শস্যভান্ডার খ্যাত মান্দা উপজেলার কৃষকদের বাঁচাতে দ্রুত অসাধু কর্মকর্তা এবং ডিলারদের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের রাসায়নিক সার সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি কর্মকর্তার পক্ষে সাফাই গেয়ে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে জানতে ভাই ভাই ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের (ইউপি) ডিলার যুগল চন্দ্র মন্ডল এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি জীবন কুমার কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে উপজেলার কৃষকেরা এবিষয়ে সরেজমিন তদন্তপুর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।